কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ছেলের হাতে বাবা খুন।

নিউজ ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পারিবারিক কলহের জের ধরে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মন্ডলভোগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোঃ বজলুর রহমান (৬০) ওই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে জুবায়ের (২৫) পলাতক রয়েছে।

পুলিশ জানায়, দুপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবার সাথে অটোরিকশা চালক ছেলে জুবায়েরের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় বাবাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় উত্তেজিত জুবায়ের। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চান্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল হক উজ্জ্বল জানান, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে উত্তেজিত হয়ে ছেলে তার বাবাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অভিযুক্ত জুবায়েরকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে। অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে হচ্ছে। ভিডিও দেখতে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিঠামইনে তিন ইউপি চেয়ারম্যান বহিষ্কার, প্রশাসক নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মিঠামইনে বহিষ্কৃত তিন ইউপি চেয়ারম্যান

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৩(১) ধারার বিধান অনুযায়ী এবং পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় অবহেলার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বহিষ্কৃত চেয়ারম্যানরা হলেনঃ ১ নং গোপদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন , ০৪ নং ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া , ০৭ নং বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম।

বহিষ্কৃত চেয়ারম্যানদের পরিবর্তে মিঠামইন উপজেলার ১নং গোপদিঘী ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান। ৪ নং ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ভূঁইয়া মো. মাজহারুল ইসলামকে। আর ৭ নং বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ই.আ.ম. মামুন মজুমদার।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সেবা কার্যক্রমে গতি আসবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভৈরবে জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপির চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা বাহিনীর সিএসএফ কর্মকর্তা মো.আক্তারুজ্জামান নেতৃত্বে একটি টিম সম্ভাব্য সভাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে ভৈরব পৌর স্টেডিয়ামে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা কেন্দ্রিক এই জনসভায় স্মরণকালের সর্বোচ্চ জনসমাগম ঘটাতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

এসময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ- ৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.শরীফুল আলম। এছাড়া বিকেল ৪টায় ভৈরব উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ- ৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.শরীফুল আলম জানান, ২১ জানুয়ারি আকাশপথে সিলেটে পৌঁছানোর পরের দিন ২২ জানুয়ারি মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ১১টায় তিনি সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। ওই জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। পথে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড, কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এসব সভায় সংশ্লিষ্ট জেলার বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন।

তিনি আরও জানান, ভৈরবে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো প্রস্তুতি শুরু করেছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা বাহিনীর সিএসএফ কর্মকর্তা মো.আক্তারুজ্জামান বলেন, সিলেটে মাজার জিয়ারত শেষে ত্রিয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম প্রচারণায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সম্ভাব্য জনসভার স্থান পরিদর্শন করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কিশোরগঞ্জে ১৩০০ টাকার এলপি গ্যাস মিলছে না দুই হাজারেও।

নিউজ ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জ, সোমবার, ১২/০১/২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১৩০০ টাকার এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ২ হাজারেও মিলছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।

দুই সপ্তাহ আগে ভৈরব শহরে প্রতিটি সিলিন্ডার এলপি গ্যাস ১২৫০ টাকা থেকে ১৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিলারদের বক্তব্য তারা বাড়তি দামে কোনো গ্যাস বিক্রি করছে না। সাব ডিলার বা খুচরা দোকানদারা মজুত করা গ্যাস অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছে।

কিশোরগঞ্জে ১৩০০ টাকার এলপি গ্যাস মিলছে না দুই হাজারেও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভৈরব শহরের বাসাবাড়ি ও রেস্তোরাঁর মালিকরা রান্না করতে চাহিদার গ্যাস কিনতে ডিলারদের দোকানে দোকানে ঘুরছে কিন্তু স্থানীয় সব ডিলার মালিক বলছে তাদের গত দুই সপ্তাহ ধরে কোম্পানি এলপি গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছে না। তাদের মজুত এখন শূন্য। আবার খুচরা এলপি গ্যাস বিক্রেতারা তাদের গুদামে গোপনে মজুত করে প্রতিটি সিলিন্ডার এলপি গ্যাস ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।

ভৈরব শহরের আদিয়ান রেস্টুরেন্ট মালিক মো. কাজল মিয়া বলেন, আমার রেস্টুরেন্টে সপ্তাহে দুটি মাসে ৮টি সিলিন্ডার গ্যাস প্রয়োজন। দুই সপ্তাহ আগেও প্রতিটি এলপি গ্যাস ১৩৫০ টাকায় কিনতাম কিন্তু এখন বাড়তি দাম ২০০০/২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

আরেক চায়ের দোকানদার নিজামুল বলেন, আমরা তৈরি পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি না। অথচ জ্বালানির এলপি গ্যাস প্রতিটি ৭০০/৮০০ টাকা বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে পণ্য বিক্রিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

শহরের বাসার মালিক আবদুর রশিদ বলেন, আমি স্বল্প আয়ের মানুষ, বাসায় এলপি গ্যাস ব্যবহার করি। দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে গ্যাস না পেয়ে রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম। গ্রাম থেকে আসা জমির হোসেন কোথাও গ্যাসের সিলিন্ডার না পেয়ে হতাশ।

আবুল হোসেন নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ৭০০ টাকা বাড়তি দিয়ে ২০০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছি এক দোকানির কাছ থেকে। শর্ত ছিল বাড়তি টাকার কথা বলা যাবে না।

স্থানীয় এলপি গ্যাস পদ্মা কোম্পানির ডিলার মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমরা কোম্পানিতে আগে টাকা জমা দিয়েও দুই সপ্তাহ যাবৎ গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি না। আমার কাছে কোনো মজুত নেই। বাড়তি দামে কারা গ্যাস বিক্রি করছে তা আমি জানি না। কোম্পানি সাপ্লাই না দিলে আমরা কীভাবে গ্যাস বিক্রি করব।

আরেক ডিলার জিল্লুর রহমান জানান, আমি ডেলটা কোম্পানির ডিলার। গত ২০ দিন আগে কোম্পানিতে অগ্রিম টাকা জমা করার পরও এখনও কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ করছে না। গোপন গুদামে মজুত করে কারা বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছে তা আমার জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *